আকিবুজ্জামিন :

টানা বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে সাতক্ষীরা পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল।সৃষ্ট দুরবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।বসতবাড়ি, রান্নাঘর, স্যানিটেশন ব্যবস্থা এমনকি টিউবওয়েল পর্যন্ত তলিয়ে গেছে পানিতে।দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট, বাড়ছে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা।

জলাবদ্ধতায় ভেঙে পড়েছে জনজীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। শহরের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা বাড়ির ভেতরেই আটকে পড়েছেন, কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ককশিটের ভেলা তৈরি করে চলাচল করছেন। বিপাকে পড়েছেন চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও।

সাতক্ষীরা পৌর এলাকার কামালনগর, ইটাগাছা, মধুমোল্লারডাঙি, মেহেদীবাগ, রসুলপুর, বদ্দিপুর, রইচপুর, পার-মাছখোলা, গদাইবিল, পুরাতন সাতক্ষীরা—এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র প্রকট। অধিকাংশ বাড়ির আঙিনা ও ভেতরে পানি উঠেছে। রান্নাবান্না বন্ধ, গোয়ালঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে গৃহস্থরা। ঘরের মধ্যে সাপ, পোকামাকড় বাসা বাঁধছে, আতঙ্কে রাত কাটছে অনেকের।

ইটাগাছা বিলপাড়ার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম খোকা অভিযোগ করে বলেন, “পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের নির্মাণ করায় আমাদের গ্রাম তলিয়ে গেছে।”

বদ্দিপুর কলোনির গৃহিণী সাজেদা বেগম জানান, “গত ১০ বছর ধরে এই এলাকাটি জলাবদ্ধ থাকে ছয়-সাত মাস। বারবার বললেও পৌরসভা কোনো পদক্ষেপ নেয় না।”

কুখরালি আমতলার শহীদুজ্জামান শিমুল বলেন, “৬নং ওয়ার্ডের তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। পানি নিষ্কাশনের বিল বন্ধ করে রেখেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ঘের মালিকরা।”

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শোয়াইব আহমাদ বলেন, “২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫০ কিলোমিটার সেচনালা ও খাল সংস্কার করা হয়েছে। কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি বেতনা নদী খননের কাজ চলছে। প্রাণসায়ের খালে পৌরসভার পানি ফেলার ব্যবস্থা করলে সংকট কিছুটা কমবে। পানি নিষ্কাশনের পথ খুলে দিতে ঘের মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে ৮ জুলাই দুপুর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। বৃষ্টির ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং জলাধারগুলো দখল ও ঘের নির্মাণের ফলে প্রতিবছরই সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে।এখনই স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে